রাজশাহীর তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামে মৌসুমের প্রথম আলু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন হয়েছে। নবান্ন উৎসবের মতোই শ্রমিকদের আনন্দ দিতে এই উৎসবের আয়োজন করেছেন কৃষক রানা চৌধুরী।
সকাল থেকে মাঠে আলু তোলার কাজ চলে, আর সন্ধ্যায় শুরু হয় রান্নাবান্নার আয়োজন। শ্রমিকদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের জন্য ছিল বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা। আলু ও মাছের ঘন্ট, হাঁসের মাংসসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করা হয়।
রানা চৌধুরীর ২৪ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘা পৈতৃক, আর বাকি ১৪ বিঘা ইজারা নেওয়া। পুরো মৌসুমজুড়ে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক তাঁর জমিতে কাজ করছেন। তাঁদের সম্মান জানাতেই তিনি এই উৎসবের আয়োজন করেছেন।
রাতে উৎসবস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কেউ ব্যস্ত ঘন্ট রান্নায়, কেউ হাঁসের মাংস তৈরি করছেন, আবার কেউ খাওয়ার ব্যবস্থাপনায়। কলাপাতায় পরিবেশিত খাবারের সঙ্গে ছিল আন্তরিকতার ছোঁয়া। শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম বাজার করে এনেছেন বিশাল আকৃতির কাতলা মাছ, আর রান্নার দায়িত্বে ছিলেন অভিজ্ঞ শ্রমিক এমদাদুল হক।
তবে কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও আলুর দাম কম থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। রানা চৌধুরী বলেন, ইজারার খরচ কোনোমতে উঠে এলেও লাভের মুখ দেখা কঠিন।
রাজশাহীর জেলা মার্কেটিং অফিসার মনোয়ার হোসেন জানান, এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হচ্ছে ২১-২২ টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচও উঠছে না, যা কৃষকদের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাত ১২টায় উৎসব শেষ হলেও শ্রমিকদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। রানা চৌধুরী ও তাঁর পরিবারও এই আনন্দ ভাগ করে নেন। সবার মনে দাগ কেটে গেল আলুকে ঘিরে এই অনন্য আয়োজন।
#আলু_উৎসব #কৃষি #রাজশাহী #শ্রমিক_আনন্দ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন