থানার কাছেই প্রবাসীর গাড়িতে হামলা, সর্বস্ব লুট !

দেশে ফিরতেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হলেন কুয়েতপ্রবাসী নাইমুল ইসলাম। ১৯ মাস প্রবাস জীবন কাটিয়ে বুধবার রাতে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। এরপর পরিবারসহ ভাড়া করা মাইক্রোবাসে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে নিজ বাড়ির পথে রওনা হন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন তিনি।



ভোরের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফালগুনকরা মাজার এলাকায় তাঁদের গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় ডাকাতদল। থানার মাত্র ৫০০ গজ দূরে সংঘটিত এই ঘটনায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর সর্বস্ব লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

নাইমুল ইসলাম জানান, মেঘনা সেতু পার হওয়ার পর রাত দুইটার দিকে তাঁরা যাত্রাবিরতি নিয়ে আবার রওনা দেন। চৌদ্দগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি পিকআপ তাদের মাইক্রোবাসের পাশে এসে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে মুখোশধারী ৮-১০ জন ডাকাত ধারালো অস্ত্রসহ তাদের গাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে এবং যাত্রীদের জিম্মি করে।

ডাকাতরা প্রবাস থেকে আনা মালামাল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও কুয়েতি দিনার লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বজনরা ৯৯৯-এ ফোন করলে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গুলজার আলম জানান, প্রবাসীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নাইমুল ইসলাম বলেন, "প্রবাসে কষ্ট করে উপার্জন করা সবকিছু মুহূর্তেই হারিয়ে গেল। এখন শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।" তাঁর বাবা আবুল খায়ের জানান, ডাকাতরা পিকআপে ত্রিপল মোড়ানো অবস্থায় এসে অতর্কিতে হামলা চালায়।

মাইক্রোবাসের চালক শাহাদাত হোসেন বলেন, "ডাকাতরা প্রথমে আমাদের গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর চেষ্টা করে। পরে অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়।"

এ বিষয়ে মিয়ার বাজার হাইওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, পুলিশ ডাকাতদের শনাক্তে কাজ করছে এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


ট্যাগ: #ডাকাতি #প্রবাসী #কুমিল্লা #নিরাপত্তা #হাইওয়ে পুলিশ

মন্তব্যসমূহ