খেজুরের সরবরাহ বেড়েছে, দাম কমেছে কিছুটা

 গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে খেজুরের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের শুল্ক-কর হ্রাসের ফলে আমদানির খরচ কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও। ফলে, কেজিপ্রতি খেজুরের দাম ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।




জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৬৮৮ টন। ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রমজানে দেশে খেজুরের চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার টন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাজারে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে রোজার আগেই চাহিদার চেয়ে বেশি খেজুর আমদানি সম্পন্ন হবে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, "সরকারের শুল্ক-কর হ্রাসের ফলে খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে খেজুর বিক্রি করা সম্ভব হতো।"

দামের হ্রাস-বৃদ্ধি

বাজারে ১৫-২০ ধরনের খেজুর পাওয়া যায়, যা মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার সাধারণ মান থেকে উন্নত মানের খেজুরের দাম ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ইরাকের ‘জাহিদি’ খেজুর গত বছর বিক্রি হয়েছিল ২৩০ টাকা কেজিতে, যা এবার ১৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি আকারের মেডজুল গত বছর ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার এর দাম ১,৩২০ টাকা কেজি।

অন্যান্য খেজুরের দাম নিম্নরূপ:

  • দাব্বাস: ৩০০-৩৬০ টাকা

  • মাশরুখ: ৪০০ টাকা

  • সাফারি: ৬০০ টাকা

  • আম্বর (সৌদি): ৬০০ টাকা

  • নাকাল: ২৮০ টাকা

  • ছড়া: ৪০০ টাকা

  • আজওয়া: ৮০০-১,৫০০ টাকা

  • মেডজুল: ১,০০০-১,৫০০ টাকা

  • মিসরের আম্বর: ৯০০-১,৩০০ টাকা

খুচরা বাজারেও দাম কমেছে

রিয়াজউদ্দিন বাজারে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি হলেও গত বছরের তুলনায় তা কম। দাব্বাস খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪২০ টাকা কেজি, নাকাল ৩২০-৩৫০ টাকা, জাহিদি ২২০-২৫০ টাকা, আজওয়া ১,০০০-২,০০০ টাকা এবং মেডজুল ১,০০০-১,৮০০ টাকা কেজিতে।

একজন ক্রেতা, শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, বলেন, "আমি প্রতি বছর রমজানে খেজুর কিনে পরিবারের সদস্যদের পাঠাই। এবার ১০ কেজি আজওয়া খেজুর কিনেছি, প্রতি কেজির দাম পড়েছে ১,২০০ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম।"

শুল্ক-কর কমলেও আরও হ্রাসের দাবি

গত নভেম্বরে সরকার খেজুরের আমদানির ওপর শুল্ক-কর হ্রাস করে। শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয় এবং অগ্রিম কর সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়। এ সুবিধা ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

তবে আমদানিকারকেরা মনে করছেন, এখনও শুল্কায়ন মূল্য তুলনামূলক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৬ ফেব্রুয়ারির এক বৈঠকে জানায়, বর্তমানে আমদানিকৃত খেজুরের প্রায় সবই বাজারে প্রবেশ করেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, শুল্কায়ন মূল্য কমানো হলে কেজিপ্রতি দাম আরও ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

ফ্রেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ডেটসের কর্ণধার মো. শফিউল আজম বলেন, "যদি শুল্কায়ন মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হয়, তাহলে বাজারে আরও কম দামে খেজুর বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।"


✅ #খেজুর_আমদানি
✅ #খেজুরের_দাম
✅ #রমজান_২০২৫
✅ #বাংলাদেশ_বাজার
✅ #শুল্ক_কর_হ্রাস
✅ #খুচরা_বাজার
✅ #পাইকারি_বাজার
✅ #ট্যারিফ_কমিশন
✅ #এনবিআর
✅ #ফলের_বাজার

মন্তব্যসমূহ