পবিত্র কোরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলো তিলাওয়াত করার সময় বা শোনার পর মুমিন মুসলমানদের আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করা আবশ্যক। এই সিজদাকে বলা হয় সিজদায়ে তিলাওয়াত।
তিলাওয়াত শব্দ করে বা চুপিসারে করা হোক না কেন, সিজদা করাই বিধান। তবে একই আয়াত বারবার পড়লে একবার সিজদা করলেই যথেষ্ট হবে। এটি ফরজ নয়, তবে ওয়াজিব বিধায় এটি পালন না করলে গুনাহ হবে।
তিলাওয়াতে সিজদার পদ্ধতি
সিজদার জন্য হাত ওঠানোর প্রয়োজন নেই। দাঁড়িয়ে থাকলে সরাসরি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতে হবে এবং তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পড়ে আবার আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুটি সিজদা করার দরকার নেই, শুধু একটি সিজদাই যথেষ্ট। এছাড়া বসে থেকেও সিজদা করা যেতে পারে। পুরুষদের জন্য আল্লাহু আকবার উচ্চস্বরে বলা উত্তম।
সিজদার ফজিলত
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা সিজদার আয়াত পাঠ করে সিজদায় যায়, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে সরে যায় এবং বলে, হায়! মানুষ সিজদা করে জান্নাত অর্জন করল, আর আমি সিজদা করতে অস্বীকার করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হলাম।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৩৩)
তিলাওয়াতের সিজদার দোয়া
নবী (সা.) তিলাওয়াতের সিজদার সময় একটি দোয়া পড়তেন: ‘সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাজি খালাকাহু, ওয়া শাক্কা সামআহু, ওয়া বাসারাহু বিহাওলিহি ওয়া কুওয়াতিহি।’
এর অর্থ: “আমার মুখমণ্ডল সিজদায় লুটিয়ে পড়ল সেই মহান রবের সামনে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজের অসীম শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে আমাকে শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি দিয়েছেন।”
সিজদার আয়াত চেনার উপায়
কোরআনের নির্দিষ্ট ১৪টি আয়াতে সিজদার চিহ্ন দেওয়া থাকে। এই আয়াতগুলো তিলাওয়াতের সময় ওয়াজিব সিজদা করতে হয়। আয়াতগুলোর পারা, সুরা ও আয়াত নম্বর নিচে দেওয়া হলো:
১. সুরা আরাফ (৭:২০৬) - নবম পারা ২. সুরা রাদ (১৩:১৫) - ত্রয়োদশ পারা ৩. সুরা নাহল (১৬:৫০) - চতুর্দশ পারা ৪. সুরা বনি ইসরাইল (১৭:১০৭-১০৯) - পঞ্চদশ পারা ৫. সুরা মারইয়াম (১৯:৫৮) - সতেরোতম পারা ৬. সুরা হজ (২২:১৮) - সতেরোতম পারা ৭. সুরা ফুরকান (২৫:৬০) - উনিশতম পারা ৮. সুরা নামল (২৭:২৫-২৬) - উনিশতম পারা ৯. সুরা সিজদা (৩২:১৫) - একুশতম পারা ১০. সুরা সোয়াদ (৩৮:২৪) - তেইশতম পারা ১১. সুরা হা-মিম সিজদা (৪১:৩৭-৩৮) - চব্বিশতম পারা ১২. সুরা নাজম (৫৩:৬২) - সাতাশতম পারা ১৩. সুরা ইনশিকাক (৮৪:২১) - ত্রিশতম পারা ১৪. সুরা আলাক (৯৬:১৯) - ত্রিশতম পারা
এই আয়াতগুলো পাঠ করলে তিলাওয়াতকারীর ওপর সিজদা ওয়াজিব হয় এবং এটি শুনলে শ্রোতার জন্যও সিজদা করা জরুরি হয়ে পড়ে। এজন্য এসব আয়াত তিলাওয়াতের সময় চুপিসারে পড়া উত্তম, যেন অন্য কেউ শুনে অসুবিধায় না পড়ে।
উপসংহার
তিলাওয়াতের সিজদা হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের অনন্য মাধ্যম। এটি পালন করলে যেমন সওয়াব পাওয়া যায়, তেমনি না করলে গুনাহ হতে পারে। তাই কোরআনের সিজদার আয়াতগুলো সম্পর্কে জানা ও সঠিকভাবে তা পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
ট্যাগ: #ইসলাম #কোরআন #সিজদা #ইবাদত #তিলাওয়াত
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন