নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্ম হলেও, পুরোনো দখলদারি সংস্কৃতি বদলায়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষমতার মোড় বদলেছে, তবে দমন-পীড়নের রূপ রয়ে গেছে। নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে জেলেরা এখন এক ভয়াবহ সংকটের মুখে। যুগের পর যুগ যাঁরা মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাঁদের এখন পেটের দায়ে নদীতে নামতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমন অমানবিক অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নদীর নির্দিষ্ট অংশে জেলেরা অলিখিত সমঝোতার ভিত্তিতে মাছ ধরতেন। কিন্তু সম্প্রতি নতুন ক্ষমতাধরদের ইশারায় তাঁদের সে অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাঁদের মাছ ধরার জায়গা জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন।
৩০ বছর ধরে নির্দিষ্ট এলাকায় মাছ ধরা বেলাল মাঝির মতো অনেকেই এখন নদীতে নামলেই হামলার শিকার হচ্ছেন। গত ১১ জানুয়ারি তাঁর নৌকায় হামলা চালিয়ে সঙ্গীদের পিটিয়ে আহত করা হয়। এরপর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়—মাছ ধরতে হলে দুই লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। প্রাণের ভয়ে তাঁরা এখন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন, ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ দুর্ভোগে রয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁদের সমর্থকদের মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করতেই আগের ক্ষমতাসীন দলের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা জেলেদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা বলছে, ১৫ বছরের শাসনকালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও জেলেরা নির্দিষ্ট এলাকায় মাছ ধরতে পারতেন, যা এখন রুদ্ধ।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয়। ভুক্তভোগী জেলেদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। অবিলম্বে এই দখলদারি বন্ধ না হলে, নিঝুম দ্বীপের জেলেরা আরও কঠিন সংকটে পড়বেন। তাদের বেঁচে থাকার লড়াইকে গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
#নিঝুম_দ্বীপ #জেলেদের_অধিকার #দখলদারি_বন্ধ_করুন #প্রশাসনের_জরুরি_হস্তক্ষেপ
.jpg)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন