ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তাঁর ব্যতিক্রমী কার্যকলাপের জন্য আলোচিত ছিলেন। বিশেষ করে, ডিবি কার্যালয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আপ্যায়নের দৃশ্য ধারণ করে প্রচার করায় তাঁর এই কর্মকাণ্ড ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ নামে পরিচিতি পায়। এটি একসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলেও, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হারুন অর রশীদ পলাতক রয়েছেন।
বর্তমানে ডিবিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ভাতের হোটেল’ যুগ শেষ, এখন ডিবি তাদের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে।
কীভাবে ‘ভাতের হোটেল’ নামটি এল?
২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তখন হারুন তাঁকে আপ্যায়ন করেন, এমনকি নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেন। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে তারকা, ব্লগার, টিকটকারসহ নানা ব্যক্তিকে একইভাবে আপ্যায়ন করা হতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ নামে পরিচিতি পায়।
ডিবি কার্যালয়ে পরিবর্তন
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ডিবিতে আর কোনো ‘ভাতের হোটেল’ থাকবে না।
ডিবির বর্তমান প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক জানান, হারুনের কার্যক্রম ডিবির ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছিল। তবে এখনকার ডিবি আর হারুনের ডিবি নয়; এটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠিত হয়েছে।
সেই কক্ষের বর্তমান অবস্থা
প্রসঙ্গত, ‘ভাতের হোটেল’ হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষটি এখন দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে কখনো ছোটখাট সভা অনুষ্ঠিত হয়, আবার কখনো আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবহার করা হয়।
নতুন ডিবি: আস্থার প্রতীক
ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, হারুনের সময়কার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড অতীত। এখন ডিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর, পেশাদার এবং সাধারণ মানুষের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
ট্যাগ: #ডিবি #হারুনঅররশীদ #ভাতেরহোটেল #পুলিশবিভাগ #নতুনডিবি
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন