দীর্ঘ ১৫ বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমামতির দায়িত্বে ফিরলেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। আজ রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতর উদ্যাপন সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুফতি ছাইফুল্লাহ বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব। তাঁর পিতা আবুল খায়ের মোহাম্মদ নূরুল্লাহ দীর্ঘ ৩০ বছর শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান। ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবারও ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করবে রেলওয়ে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, সেনাবাহিনীর মেজর রায়হান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারী কাদেরী, সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির রমজান আলীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, মুফতি ছাইফুল্লাহ ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমামতি করেন। এরপর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় এবং ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ নতুন ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে গত বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রামপুরা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ফরীদ উদ্দীন মাসউদকে আসামি করা হয়, এরপর থেকে তিনি পলাতক।
এরপর থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমামতি শূন্য থাকায়, এবার সিদ্ধান্ত হয় মুফতি ছাইফুল্লাহ পুনরায় ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন।
ট্যাগ: #শোলাকিয়া #ঈদগাহ #ইমামতি #ঐতিহ্য #নিরাপত্তা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন