ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা বহুদিনের। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প রাশিয়ার জন্য এক ‘মূল্যবান সম্পদ’—এমন ধারণা ১৯৮৭ সাল থেকেই ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছু সাবেক কেজিবি কর্মকর্তার দাবি, সোভিয়েত যুগ থেকেই ট্রাম্পকে পুতিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘লালনপালন’ করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ কখনোই প্রমাণিত হয়নি।
২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি তদন্তে উঠে এলেও, ট্রাম্প বরাবরই পুতিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থেকেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ৯০ মিনিট দীর্ঘ এক ফোনালাপে বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরে গেছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর থেকে মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে সরব হয়েছেন।
অনেকেই বলছেন, ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যেই ক্রেমলিনের স্বার্থ রক্ষা করছেন। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনায় লিপ্ত এবং রাশিয়ার স্বার্থে ‘শান্তিচুক্তি’র কথা বলছেন। অথচ বাস্তবে এই চুক্তি মানে হবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়া।
ট্রাম্পের নীতির নেপথ্যে পুতিনের প্রভাব?
পুতিনকে ট্রাম্প সব সময় ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীনও তিনি রাশিয়ার প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন, যা এখন আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নীতিগুলো পশ্চিমা বিশ্ব ও ন্যাটোর জন্য নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অবস্থান এখন এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়তো তাঁকে ‘লেনিন পদক’ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন! যদিও এটি বাস্তবে ঘটবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে, তবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড দেখে অনেকে বলছেন—তিনি পুতিনের একজন বিশ্বস্ত মিত্র।
ন্যাটো ও ইউরোপের শঙ্কা
ট্রাম্প যদি আবারও ক্ষমতায় আসেন, তবে ইউক্রেন, ন্যাটো এবং সমগ্র ইউরোপের জন্য এটি হবে এক বড় ধাক্কা। কারণ তিনি এরই মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ন্যাটোর প্রতি তাঁর অনাস্থার কারণে জার্মানি ও ফ্রান্স উদ্বিগ্ন, আর পোল্যান্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো ভাবছে—তারা কি রাশিয়ার পরবর্তী লক্ষ্য?
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘নমনীয়তা’ রাশিয়াকে আরও আগ্রাসী করে তুলছে। রাশিয়া এখন ইউক্রেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে এবং সামরিক অভিযানের মাত্রা বাড়াচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুতিনের চোখে ট্রাম্প: বন্ধু না সহযোদ্ধা?
পুতিন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘একটি অংশীদার রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে এখন ‘বাস্তববাদী’ নেতারা ক্ষমতায় আছেন—যারা আগের মতো ‘নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা’ নিয়ে মাথা ঘামান না।
ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেলেও, হয়তো রাশিয়ার ‘লেনিন পদক’ পেতে পারেন! কারণ, বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে ট্রাম্পের ভূমিকা দেখে অনেকেই বলছেন—তিনি এখন পুরোপুরি পুতিনের ছায়ায় চলছেন।
ট্যাগ: #ট্রাম্প #পুতিন #রাশিয়া #যুক্তরাষ্ট্র #আন্তর্জাতিক_রাজনীতি #ইউক্রেন_সংকট #ন্যাটো
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন