ট্রাম্পের নতুন লক্ষ্য: এবার জাপান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় একক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। গাজার সংঘাত কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও তিনি নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে। এবার তাঁর দৃষ্টি পূর্ব এশিয়ার দিকে, বিশেষত জাপানের ওপর।



নির্বাচনী প্রচারের সময় চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলেও ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সরাসরি বাণিজ্যযুদ্ধে জড়াননি। তবে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এতদিন পূর্ব এশিয়ার দিকে বিশেষ মনোযোগ না দিলেও, এখন তিনি জাপান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।

ট্রাম্প সম্প্রতি নিপ্পন স্টিলের মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইউএস স্টিল অধিগ্রহণের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং চুক্তি বাতিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। এ কারণেই জাপানের সরকার কিছুটা নিশ্চিন্ত ছিল। কিন্তু মার্চ মাসে এসে ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে বিষয়টি।

নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তি

১৯৬০ সালের সংশোধিত জাপান-মার্কিন চুক্তি অনুযায়ী, জাপান আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষা করতে বাধ্য, তবে বিপরীত ক্ষেত্রে একই শর্ত প্রযোজ্য নয়। ট্রাম্প মনে করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একপাক্ষিক বোঝা। তিনি অভিযোগ করেছেন যে জাপান অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যয় করছে না। ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে জাপান যেন প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি করে এবং আরও বেশি মার্কিন অস্ত্র ক্রয় করে।

জাপান দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ১ শতাংশে সীমিত রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, এই ব্যয় যেন ৩ শতাংশে উন্নীত করা হয়। পেন্টাগনের এক শীর্ষ পদে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তি এলব্রিজ কলবি এই বিষয়ে জাপানের ওপর চাপ প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

জাপানের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য জাপানের ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাপান নিজের প্রতিরক্ষা বাজেট নিজেই ঠিক করবে, অন্য দেশের নির্দেশে নয়।

বর্তমানে জাপানের অর্থনীতি খুব একটা শক্তিশালী নয়, ফলে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো তাদের জন্য কঠিন হবে। ট্রাম্পের চাপে জাপানকে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি ব্যয় করতে বাধ্য হতে পারে কি না, তা নিয়ে টোকিওর নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

ট্যাগ: #যুক্তরাষ্ট্র #জাপান #প্রতিরক্ষা #ট্রাম্প #নিরাপত্তাচুক্তি #আন্তর্জাতিকরাজনীতি


মন্তব্যসমূহ