শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ১৫২ জন দরিদ্র নারীর সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের এক উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি শহীদুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
এতদিন ধরে এসব নারীরা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যাংক এশিয়ার এজেন্টের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কেউ তাঁদের সহায়তা করতে পারছে না। সঞ্চয়ের টাকার অনুপস্থিতিতে নারীরা এখন দারুণ সমস্যায় পড়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দরিদ্র নারীদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছিল। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে তাঁরা ৩০ কেজি চাল সহায়তা পেতেন এবং এর বিপরীতে ২২০ টাকা সঞ্চয় জমা রাখতেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে, মুনাফাসহ সেই সঞ্চিত টাকা তাঁদের ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তবে শহীদুল ইসলাম, যিনি ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ছিলেন, প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত সেই টাকা ব্যাংকে জমা দিলেও পরে আর তা জমা দেননি এবং এখন সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন।
ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে এসব নারী ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা ১৮ মাসের জন্য জমা হয়নি। বর্তমানে তাঁরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াচ্ছেন, কিন্তু সুনিশ্চিত কোনো খবর পাচ্ছেন না।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবদুস সোবাহান জানান, "পাস বইয়ে টাকা জমা দেওয়ার স্বাক্ষর নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা খাদ্যসহায়তা সরবরাহ করেছি। কিন্তু ব্যাংকে টাকা জমা না দেওয়া বিষয়টি আমরা বুঝতে পারিনি।"
ব্যাংক এশিয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদ এখনো কিছু করার উদ্যোগ নেয়নি, ফলে ওই ১৫২ নারীর জন্য তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা বেড়ে চলেছে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, "আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং যাতে ওই নারীরা তাদের টাকা ফেরত পান, সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।"
ট্যাগ:
#শরীয়তপুর #প্রতারণা #দরিদ্রনারী #সঞ্চয় #ইউনিয়ন_পরিষদ #সৌদি_আরব #মহিলাবিষয়ক_প্রকল্প
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন