গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের দুই কারখানায় ২২০০ শ্রমিক ছাঁটাই, বিক্ষোভে উত্তাল শ্রমিকরা

গাজীপুরের জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন ও এমপি সোয়েটারস লিমিটেডের দুই কারখানায় প্রায় ২,২০৩ শ্রমিককে হঠাৎ ছাঁটাই করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।




এর আগে, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি কেয়া গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছিল যে, প্রতিষ্ঠানটির চারটি কারখানা আগামী ১ মে থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। উৎপাদন সংকট, কাঁচামালের ঘাটতি ও ব্যাংকিং জটিলতার কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শ্রম আইন অনুযায়ী, মে মাসে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধের কথা ছিল।

কিন্তু আজ হঠাৎ কারখানার চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয় যে, ব্যাংকিং জটিলতা অব্যাহত থাকায় ১ মার্চ থেকেই ২,২০৩ শ্রমিককে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। নোটিশে বলা হয়েছে, শ্রম আইন অনুসারে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছাঁটাইকৃতদের পুনরায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের এই ছাঁটাইয়ের বাইরে রাখা হয়েছে।

এমন ঘোষণার পর সকাল সাড়ে আটটা থেকে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পরে প্রধান ফটকের দিকেও এগিয়ে যান। গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও কোনাবাড়ী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে, তবে দুপুর পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল।

কারখানার এক কর্মচারী মোখলেছুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে, কিন্তু এখনো তাদের পাওনাদি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। আগেও অনেক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের অনেকেই এখনো টাকা পাননি। কারখানার স্টাফরাও ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।”

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, “আইন অনুসারে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হবে, তবে আমরা আগামী ২৪ মার্চের মধ্যেই পরিশোধের পরিকল্পনা করেছি। কারখানার মালিক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তবে তার মেয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে যথাসময়ে সব পরিশোধ করা হবে।”

কোনাবাড়ী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে শ্রমিকদের দাবি, পাওনা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ট্যাগ: #গাজীপুর #শ্রমিকবিক্ষোভ #কেয়া_গ্রুপ #কারখানাবন্ধ #শ্রমিকছাঁটাই

মন্তব্যসমূহ