ময়মনসিংহে এক অবৈধ পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যারা প্রসূতিদের গর্ভফুল (প্ল্যাসেন্টা) সংগ্রহ করে পাচার করছিল। সাধারণত গর্ভফুল মাটিতে পুঁতে ফেলা বা ধ্বংস করার নিয়ম থাকলেও এই চক্রটি তা সংগ্রহ করে চড়া দামে বিক্রি করছিল।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ শনিবার বিকেলে তাঁদের আদালতে তোলা হয় এবং ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
অভিযানের বিবরণ
ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি পিকআপ ভ্যানে করে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সদৃশ বস্তু ঢাকার ধামরাইয়ের দিকে নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন গাড়িটি ময়মনসিংহ নগরের বলাশপুর এলাকায় আটকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ৩৫০টি পলিথিনে মোড়ানো গর্ভফুলসদৃশ বস্তু ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পিকআপ চালক রুহুল আমিন (৩৫)-কে ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার করা হয়।
রুহুল আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ধামরাই ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলো:
✅ নজরুল ইসলাম (৫৪) – ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী
✅ মুমিনুর রহমান (৩২) – পাচার চক্রের অন্যতম সংগঠক
✅ দেওয়ান মো. অমিত (৩১) – প্রক্রিয়াজাতকরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি
✅ খুরশিদ আলম (২৫) – চক্রের আরও এক সক্রিয় সদস্য
কীভাবে চলত এই গর্ভফুল পাচার?
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের মূল হোতা নজরুল ইসলাম বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রতিটি গর্ভফুল মাত্র ৫০ টাকায় সংগ্রহ করতেন। এরপর সেগুলো সংরক্ষণ করে পিকআপের মাধ্যমে ঢাকার ধামরাইয়ে পাঠানো হতো। সেখানে মুমিনুর রহমান ও দেওয়ান মো. অমিত এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে ১,২০০ টাকা কেজি দরে একটি অপরিচিত গ্রুপের কাছে বিক্রি করতেন।
চীনের কালোবাজারে রপ্তানির সন্দেহ
ডিবি পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এটি চক্রটির দ্বিতীয় চালান ছিল এবং এগুলো বিদেশে বিশেষত চীনের কালোবাজারে পাচার করা হতো। তবে আসল উদ্দেশ্য ও কেন এগুলোর এত চাহিদা রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আইনি ব্যবস্থা
ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর কোতোয়ালি মডেল থানায় এই ঘটনার মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃত গর্ভফুলগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই যুবরাজ দাস জানান, রোববার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারের পুরো চিত্র উন্মোচন করা হবে।
🔴 এমন ভয়াবহ পাচার চক্রের মূল রহস্য কী? এর পেছনে কারা রয়েছে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আসামিদের রিমান্ড শেষে!
ট্যাগ: #গর্ভফুল_পাচার #অপরাধচক্র #ডিবি_অভিযান #বাংলাদেশ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন