জীবনের পড়ন্ত বেলায় যখন অনেকে বিশ্রাম নেন, তখন নতুন যাত্রায় পা রাখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৭ বছর বয়সী কিম গ্যাপ-নিও। ছোটবেলায় শিক্ষাজীবন থেমে গেলেও মনের কোণে এক অদম্য স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছিলেন তিনি। আর সেই স্বপ্নই অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।
শৈশবে থেমে যাওয়া শিক্ষা, নতুন করে শুরু
১৯৩৮ সালে জন্ম নেওয়া কিম ছোটবেলাতেই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারিক দায়িত্বের চাপে বাধ্য হয়ে তাঁকে প্রাথমিক শিক্ষার ইতি টানতে হয়। বাবার অকালমৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন কিম। মায়ের ইচ্ছায় যখন বিয়ের জন্য চাপ আসে, তখন কিশোরী কিম অন্য এক সিদ্ধান্ত নেন—বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান নতুন জীবনের সন্ধানে।
সংগ্রামের পথে একক যোদ্ধা
বুসানের একটি জুতার দোকানে কাজ করে জীবিকা শুরু করেন কিম। পরবর্তীতে সিউলে চলে গিয়ে বিভিন্ন কাজ করেছেন। সময়ের পরিক্রমায় বিয়ে করেন এবং পাঁচ কন্যার জন্ম দেন। স্বামীর দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে পুরো পরিবারের ভার ছিল তাঁর কাঁধে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন কিম, দায়িত্ব পালন করেছেন একাধারে কয়েক দশক।
৮০ বছর বয়সে শিক্ষার পথে প্রত্যাবর্তন
অবশেষে নিজের জন্য কিছু করার সুযোগ আসে। ৮০ বছর বয়সে স্কুলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন কিম। এক বন্ধুর সহায়তায় ভর্তি হন ইয়াংওন এলিমেন্টারি স্কুলে, যেখানে বয়সের বাধা ছাড়াই শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ভর্তি হন ইলসাং উইমেন্স হাইস্কুলে।
বিদ্যালয়ের দিনগুলো ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা সময়। সহপাঠীদের ভালোবাসা আর শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় নতুন করে শিক্ষাজীবনে প্রাণ ফিরে পান কিম। ইতিহাস তাঁর পছন্দের বিষয় হলেও অংক ও ইংরেজি শেখায় বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবুও অদম্য মনোবলে সব বাধা অতিক্রম করে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সফলভাবে হাইস্কুল পাস করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন যাত্রা
আগামী মাস থেকে সুকমইয়াং উইমেন্স ইউনিভার্সিটিতে সমাজকল্যাণ বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন কিম গ্যাপ-নিও। তাঁর কাছে শিক্ষার উদ্দেশ্য কোনো চাকরি বা ক্যারিয়ার গড়া নয়; বরং জ্ঞান অর্জন আর মানুষের সঙ্গে থাকার আনন্দই তাঁর মূল প্রেরণা।
কিমের গল্প আমাদের শেখায় যে শেখার কোনো বয়স নেই। ইচ্ছা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।
ট্যাগ: #প্রবীণ_শিক্ষার্থী #প্রেরণার_গল্প #দক্ষিণ_কোরিয়া #শিক্ষার_সীমাহীনতা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন