- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
রমজানের শুরুতেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে তুলেছে। এই অবস্থায় খুলনার একদল শিক্ষার্থী ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে—তারা চালু করেছে ‘বিনা লাভের দোকান’, যেখানে পাইকারি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজি বিক্রি করা হচ্ছে।
শহরের শিববাড়ী মোড়ে ৩ রমজান থেকে শুরু হওয়া এই দোকান ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে, যেখানে সাধারণ ক্রেতারা বাজারের তুলনায় কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছেন। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও খুলনা জেলা টাস্কফোর্স টিম।
সিন্ডিকেট ভাঙতে শিক্ষার্থীদের লড়াই
উদ্যোক্তারা বলছেন, রমজানের আগে ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৮০-৯০ টাকা। শুধু বেগুন নয়, বাড়তি দামের তালিকায় রয়েছে আলু, ছোলা, পেঁয়াজসহ প্রায় সব নিত্যপণ্য। অসাধু ব্যবসায়ীদের এ কারসাজি প্রতিহত করতেই তারা কোনো লাভ ছাড়া পাইকারি মূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে দোকানটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও সাদা কাপড় দিয়ে তৈরি সামান্য দোকান হলেও সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। শিক্ষার্থীরা মাইকে পণ্যের দাম ঘোষণা করছেন এবং ক্রেতাদের আহ্বান জানাচ্ছেন।
পণ্যের দাম ও ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
দোকানে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যের দাম:
✅ বেগুন – ৫৫ টাকা/কেজি
✅ আলু – ১৭ টাকা/কেজি
✅ ছোলা – ৯৫ টাকা/কেজি
✅ মুড়ি – ৬৫ টাকা/কেজি
✅ টমেটো – ৭.৫০ টাকা/কেজি
✅ কাঁচা মরিচ – ৪০ টাকা/কেজি
✅ রসুন – ১০০ টাকা/কেজি
✅ দেশি পেঁয়াজ – ৩৫ টাকা/কেজি
✅ সয়াবিন তেল – ১৭৫ টাকা/লিটার
✅ ডিম – ১০ টাকা/টি
✅ লেবু – ২৭ টাকা/হালি
ক্রেতারা বলছেন, বাজারের তুলনায় এখানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা তাদের জন্য স্বস্তির খবর। সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার গৃহিণী শারমিন আলম বলেন, ‘পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হ্যান্ড মাইকের ঘোষণা শুনে আসলাম, এসে দেখি সত্যিই বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য মিলছে। এটা অসাধারণ উদ্যোগ!’
কীভাবে চলছে এই উদ্যোগ?
শিক্ষার্থীরা নিজেদের চাঁদার টাকা দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কিনছেন এবং কোনো লাভ না রেখে বিক্রি করছেন। পরিবহন খরচও এতে যুক্ত করা হয়নি, আর শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন।
সংগঠনের নেতা সোহানুর রহমান বলেন, ‘আমরা কল্পনাও করিনি এত মানুষ আসবেন! প্রতিদিন ৩০০-৪০০ জন ক্রেতা পণ্য কিনছেন, আর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ হাজার টাকার পণ্য। আমরা চেষ্টা করছি পণ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর।’
এই শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য যেমন সহায়ক, তেমনি বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। রমজান মাসজুড়ে এ দোকান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়লে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ট্যাগ: #বিনা_লাভের_দোকান #শিক্ষার্থীদের_উদ্যোগ #রমজানের_বাজার #মূল্যস্ফীতি #সচেতনতা
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন