বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত আসিফ, ৭ মাস পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর

সিরাজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত কলেজছাত্র আসিফ হোসাইনের লাশ সাত মাস পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।




নিহত আসিফ সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের একডালা মহল্লার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ছেলে এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ শহরের ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাকিম হোসেন জানান, নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম আদালতে লাশ ফেরত পাওয়ার আবেদন করেন। এরপর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত রোববার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আজ লাশ হস্তান্তর করা হয়।

আসিফের মামা শাহীন শেখ জানান, আসিফ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গত ৪ আগস্ট তিনি আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন। সেদিন সকালে মিছিলে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। পরে শহরের চৌরাস্তা মোড়ে তাকে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। দুপুরের পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

৪ আগস্ট আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরদিন ৫ আগস্ট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই বাড়ির ভেতর থেকে দুজনের অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরিবারের আবেদনের পর লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।

দীর্ঘ সাত মাস পর স্বজনরা প্রিয়জনের লাশ ফিরে পেলেও শোকের ভার কমেনি। আসিফের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ট্যাগ: #বৈষম্যবিরোধী_আন্দোলন #ছাত্রআন্দোলন #সিরাজগঞ্জ #ন্যায়বিচার


মন্তব্যসমূহ