গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত পরিকল্পনার বিপরীতে নতুন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য মিসরের প্রস্তুতকৃত পরিকল্পনা আজ কায়রোয় অনুষ্ঠিত জরুরি আরব সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি ছাড়তে হবে না।
আরব লিগের উদ্যোগ
আজ কায়রোয় অনুষ্ঠিতব্য আরব লিগের বৈঠকে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে মিসর তার বিকল্প পরিকল্পনা আনতে যাচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে পরিকল্পনা উত্থাপন করেন, তা আরব নেতারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজার জনগণকে জোরপূর্বক উৎখাত করার যে প্রস্তাব ছিল, তা নিয়ে আরব বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আরব নেতারা বলেন, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেবে এবং আঞ্চলিক সহিংসতা আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে। যদিও আরব দেশগুলো কূটনৈতিকভাবে এর জবাব দেওয়ার বিষয়ে একমত হতে পারেনি।
মিসরের পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন
মিসরের পরিকল্পনা গাজাকে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। মিসর বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক কমিশনার ডুবরাভকা সুইকার সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরব লিগের সম্মেলনে পরিকল্পনাটি গৃহীত হলে প্রধান দাতা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।
মানবিক সহায়তা বন্ধে নিন্দা
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েল গত রোববার থেকে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্তের লঙ্ঘন বলে মনে করছে মিসর ও কাতার। জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার এটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হামাস ত্রাণ সহায়তা চুরি করে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করছে। তবে হামাস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির বিপরীত এবং এটি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র।
গাজায় হামলা অব্যাহত
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের হামলা থামেনি। গত রোববারের এক হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে সৌদি আরব ইসরায়েলের ত্রাণ সহায়তা বন্ধের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে ১,৯০০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তির প্রস্তাব দেয়। তবে এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
ওআইসি-র জরুরি বৈঠক
আজকের আরব লিগ সম্মেলনের পর ওআইসি-র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিপরীতে বিকল্প উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছেন, গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংকল্প প্রয়োজন।
ট্যাগ: #গাজা, #মিসর, #ট্রাম্প, #যুদ্ধবিরতি, #আরব লিগ, #মানবিক সহায়তা, #ইসরায়েল, #হামাস
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন