বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার: দুই সতিনের বিরোধের জেরে নির্মম হত্যা

লালমনিরহাটের মোগলহাটের ফুলগাছ গ্রামে গৃহবধূ হাসিনা বেগম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী আশরাফুল ইসলাম ও একাধিক ব্যক্তির সহায়তায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।




পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ৪ মার্চ রাতে হাসিনা বেগমকে শফিকুল ইসলামের ভুট্টাখেতে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আশরাফুল তাঁর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় স্ত্রীর কাটা মাথা বাড়িতে নিয়ে যান এবং তা তাঁর প্রথম স্ত্রী মেহেরুন্নেসাকে দেখান। পরদিন ভোরে ভারত সীমান্তসংলগ্ন বাঁশঝাড়ের নিচে একটি তামাকখেতে মাথাটি পুঁতে রাখা হয়।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আশরাফুলের প্রথম স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ও দ্বিতীয় স্ত্রী হাসিনার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী জানান, ঘটনার পর থেকে আশরাফুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী আত্মগোপনে ছিলেন। পরে শুক্রবার বিকেলে মেহেরুন্নেসাকে আটক করা হলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন এবং পুলিশ তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদিতমারীর দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার তামাকখেত থেকে হাসিনার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে।

গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুলিশ তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে, তবে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নিহত হাসিনা বেগমের পরিচয় নিশ্চিত করতে রংপুরের সিআইডি পুলিশ হাতের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ: #লালমনিরহাট #হত্যাকাণ্ড #পারিবারিককলহ #প্রেস_ব্রিফিং #অপরাধ


মন্তব্যসমূহ