গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় হঠাৎ তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধের নোটিশ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছেন শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন।
মহাসড়কে যানজট, চরম দুর্ভোগ
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও যাত্রীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
কারখানা বন্ধের নোটিশ ও শ্রমিকদের প্রতিক্রিয়া
শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে, টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার বিএইচআইএস অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেওয়ার কথা ছিল ৯ মার্চ। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন। পরে বিকেলে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। তবে আজ সকালে কাজে যোগ দিতে এসে দেখতে পান, কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টাঙানো হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মার্চ সকালে শ্রমিকেরা নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তাঁদের কাজে ফিরতে অনুরোধ করা হলেও তাঁরা রাজি হননি, যা শ্রম আইন অনুযায়ী অবৈধ ধর্মঘটের শামিল। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, শ্রমিকদের এ ধরনের আচরণ কারখানায় নাশকতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ১১ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে পুনরায় কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশের ভূমিকা
কারখানা বন্ধের খবরে সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা হোসেন মার্কেট ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশ তাঁদের শান্ত করতে কাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
#গাজীপুর #টঙ্গী #পোশাকশিল্প #শ্রমিকবিক্ষোভ #মহাসড়কঅবরোধ #কারখানাবন্ধ #শ্রমআইন
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন