যুক্তরাষ্ট্র-হামাস সরাসরি আলোচনায়: গাজা সংকট সমাধানের নতুন মোড় ?

গত ১৭ মাস ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত উত্তাল থাকলেও এবার ভিন্ন এক মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। প্রথমবারের মতো হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজার চলমান সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে মার্কিন প্রশাসন নিজেদের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আনছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধলাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবুও হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় এখনো অধরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামাসের যোদ্ধারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংগঠনটিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন?

সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, গাজা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন আলোচকরা হামাসের সঙ্গে সংলাপে বসতে প্রস্তুত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। এতদিন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে কোনো আলোচনা থেকে বিরত ছিল ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন হামাসের দাবি ও শর্তগুলো শুনতে আগ্রহী। বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকসহ ৫৯ জন জিম্মির মুক্তির বিষয়ে একটি সমঝোতা চায় তারা। ধারণা করা হচ্ছে, বেঁচে থাকা জিম্মিদের মধ্যে মাত্র একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।

গাজা শাসন থেকে সরে আসতে পারে হামাস?

হামাসের দীর্ঘদিনের অবস্থান ছিল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তবে ২০১৭ সালে সংগঠনটি জানায়, গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র মেনে নিতে পারে তারা। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হামাসকে ক্ষমতা থেকে সরানো হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে হামাস নেতাদের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে আসতে রাজি।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পরবর্তী শাসনব্যবস্থায় হামাসের অংশগ্রহণ আবশ্যক নয়।’ পাশাপাশি, আরব নেতারা গাজায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে হামাসের ভূমিকা থাকবে না। হামাসও এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

হামাস কি নিরস্ত্র হবে?

হামাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তারা কি নিরস্ত্র হতে রাজি? হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা অস্ত্র সমর্পণ করব না। এটি আমাদের জন্য লাল রেখা।’ তবে হামাসের অভ্যন্তরীণ মহলে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং কিছু অংশ বিভক্ত বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও হামাসের সরাসরি আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইসরায়েল তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’ তবে সেই অবস্থান কী, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।

শেষ কথা

যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনার উদ্যোগ গাজা সংকট সমাধানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে। তবে হামাস কতটুকু ছাড় দেবে এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র কতদূর পর্যন্ত সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

#গাজাযুদ্ধ #হামাস #যুক্তরাষ্ট্র #ইসরায়েল #ফিলিস্তিন #রাজনৈতিকসমাধান #মধ্যপ্রাচ্য #ট্রাম্প #নেতানিয়াহু #WarAndPeace #MiddleEastCrisis


মন্তব্যসমূহ