চট্টগ্রাম নগরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও খোলা সয়াবিন তেলের বাজারে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ টাকা বেশি দামে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে, যদিও প্রশাসনের হুঁশিয়ারির পর কিছুটা মূল্যহ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর বার্তা
গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানিকারকরা প্রতি লিটার খোলা তেল ১৫৩ টাকায় সরবরাহ করবেন, পাইকারি পর্যায়ে তা ১৫৫ এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি দেখতে চাই, রাষ্ট্রের শক্তি বেশি নাকি ব্যবসায়ীদের। তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকলে গুদাম পর্যায়ে অভিযান চালানো হবে।’
খুচরা বাজারে নির্ধারিত দাম মানা হচ্ছে না
প্রশাসনের হুঁশিয়ারির পরও নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, চন্দনপুরা এবং আশপাশের এলাকায় নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি হতে দেখা যায়নি। শুক্রবার খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যদিও পাইকারি বাজারে কিছুটা মূল্য হ্রাস পেয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ১৫৫ থেকে ১৫৬ টাকার মধ্যে তেল বিক্রি করছেন, কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন, তারা আগের উচ্চমূল্যের স্টক শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশি দামেই বিক্রি করবেন।
বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। বেশিরভাগ দোকানে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও কিছু জায়গায় ১৮৫ টাকায় পাওয়া গেছে, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।
বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযানে প্রশাসন
অভিযানে দেখা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুত রেখেছেন তেল। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন অভিযানে প্রশাসন গুদামে লুকিয়ে রাখা বোতলজাত তেল উদ্ধার করেছে। সর্বশেষ রিয়াজউদ্দিন বাজারের মেসার্স জেকে ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দোকানে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির জন্য জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা বাজারে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং অধিকাংশ দোকানে তেলের মজুত পেয়েছি। এ ধরনের অনিয়ম রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
বোতলজাত তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। টি কে গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি নিউটন মল্লিক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বহদ্দারহাট বাজারে ৫০০ কার্টন সয়াবিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে আরও সরবরাহ করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনও জানান, বোতলজাত তেল দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে এবং সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘সরকারের উচিত খোলা তেলের বিক্রি বন্ধ করে শুধু বোতলজাত বা পলিব্যাগে বিক্রির ব্যবস্থা করা। এতে তেলের মেয়াদ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মজুতদারির সুযোগ কমবে।’
সরকারের কঠোর নজরদারি এবং ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া সয়াবিন তেলের বাজার স্থিতিশীল করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও ভোক্তারা এখনও স্বস্তি পাচ্ছেন না। বাজারের অস্থিরতা নিরসনে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
#সয়াবিনতেল #তেলেরদাম #দ্রব্যমূল্য #বাজারপরিস্থিতি #ভোক্তারঅধিকার #খুচরাবাজার #পাইকারিবাজার #চট্টগ্রামবাজার #বাংলাদেশঅর্থনীতি #মজুদদারি #মূল্যনিয়ন্ত্রণ #খাদ্যপণ্য #সরকারিনিয়ন্ত্রণ #ব্যবসাবাণিজ্য #খাদ্যসংকট #নিত্যপ্রয়োজনীয়পণ্য #বাজারবিশ্লেষণ #অর্থনৈতিকসংবাদ #ভোক্তাসুরক্ষা #SoybeanOil #EdibleOilPrices #CommodityMarket #PriceHike #ConsumerRights #FoodIndustry #RetailMarket #WholesaleTrade #ChittagongMarket #BangladeshBusiness #OilCrisis #MarketAnalysis #FoodSupply #Inflation #GovtRegulation #BusinessNews #PriceControl #EconomicUpdate #FoodSecurity #RetailNews

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন