ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে। কুকি-জো সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও নারী রয়েছেন।
সহিংসতার সূত্রপাত
গত শনিবার কাংপোকপি জেলায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন জাতীয় মহাসড়ক ২-এর অবরোধ তুলে দিতে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ মহাসড়কটি আসাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরামকে সংযুক্ত করে। ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে ছিল।
রাজ্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী এই অবরোধ সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাংপোকপি দিয়ে বাস চালানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বাস লক্ষ্য করে গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় গুলিতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন এবং সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৭ জন সদস্য আহত হন।
পুলিশের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
মণিপুর পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করতে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছ ফেলে এবং পাথরের টুকরো দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে।
কুকি-জো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইন্ডিজিনাস ট্রাইবাল লিডারস ফোরাম (আইটিএলএফ) বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে কুকি-জো কাউন্সিলের ডাকা প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে ন্যায্যতা দিয়েছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, মেইতেই সম্প্রদায়কে কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকায় চলাচলের সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদেই বিক্ষোভ শুরু হয়।
মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন ও অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান
১৩ ফেব্রুয়ারি মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়, যার ফলে রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হাতে চলে যায়। এরপর ১ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মণিপুরের চলাচলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যপাল অজয়কুমার ভাল্লা ৬ মার্চের মধ্যে সব পক্ষকে লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১,০০০ অস্ত্র জমা পড়েছে, তবে লুণ্ঠিত প্রায় ৬,০০০ অস্ত্র এখনো বিক্ষোভকারীদের হাতে রয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবারের সংঘর্ষেই নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা এটি নিশ্চিত করেছে।
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
বিক্ষোভের জেরে কুকি-জো সম্প্রদায়ের নেতারা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এতে মণিপুরের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন