ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন মাইকেল গ্রগনার্ড, ভেবেছিলেন দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সেরা নেতা। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে নিজেই বুঝতে পারলেন, কত বড় ভুল করেছিলেন! যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে গণহারে কর্মী ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন তিনিও।
মার্কিন কৃষি বিভাগে আইনি উপদেষ্টা হিসেবে নতুন কাজ শুরু করেছিলেন গ্রগনার্ড। অফিস থেকে বলা হয়েছিল, তাঁর চাকরি নিরাপদ। অথচ সম্প্রতি তিনিও বরখাস্ত হয়েছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি হতবাক হয়ে গেছি। আশা করেছিলাম, এই চাকরিটা করেই বাকি জীবন কাটাব।’
শুধু গ্রগনার্ড নন, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া আরও বহু ফেডারেল কর্মী এখন কর্মহীন। ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্ক সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সংস্থা থেকে হাজারো কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছেন। উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিক্ষানবিশ ও অভিজ্ঞ কর্মীদেরও হুট করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জেমস ডায়াজ, যিনি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগে (আইআরএস) কাজ করতেন, বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছি, কিন্তু এভাবে গণহারে চাকরি খাওয়া আমি সমর্থন করি না। কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
চাকরি হারানো অনেকে এখন ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার জন্য অনুশোচনা করছেন। এক সাবেক নারী সরকারি কর্মী বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ট্রাম্প কর্মসংস্থান বাড়াবেন, মূল্যস্ফীতি কমাবেন। কিন্তু এত দ্রুত চাকরি হারাব, তা কখনো কল্পনাও করিনি। যদি আগে জানতাম, তাহলে কখনোই তাঁকে ভোট দিতাম না।’
প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ছাঁটাই কি শুধুই ব্যয় সংকোচন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে? হতাশ ফেডারেল কর্মীদের কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন—তাঁরা কি ভুল মানুষকে ভোট দিয়েছিলেন?
ট্যাগ: #মার্কিনরাজনীতি #ট্রাম্প #চাকরিচ্যুতি #ভোটেরপরিণাম #অর্থনীতিরপ্রভাব
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন