"ইতালির স্বপ্ন ভেঙে পঙ্গু খুরশেদের করুণ কাহিনী: হারানো জীবনের গল্প"

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকার খুরশেদ মিয়া (৩৫) এক সময় সচ্ছল জীবন কাটানোর আশায় ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। ভোর বেলা সবজি বিক্রি করে সংসার চালালেও তাঁর স্বপ্ন ছিল বিদেশে গিয়ে পরিবারের জন্য একটি ভালো জীবন তৈরি করার। ২০২৩ সালে ১৪ জুন চার লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়া যান। সেখানে এক বছর আট মাসে কাটানো প্রতিটি দিন ছিল একের পর এক সংকট আর অন্ধকার।



লিবিয়ায় কাজ করতে গিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন বিপদের বেলায়। আইনের হাত থেকে বাঁচতে কখনো গাছের ডালে বসে, কখনো ভবনের কার্নিশে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছেন। একবার মাফিয়া চক্রের হামলা থেকে বাঁচতে দোতলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে পঙ্গু হন তিনি। এর পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, পায়ের ক্ষত বাড়ে এবং চিকিৎসায় বহু টাকা ব্যয় হয়ে যায়।

লিবিয়ার প্রতারক দালালের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। একসময় হাতে মাত্র কিছু টাকা আর শারীরিক অক্ষমতার সঙ্গে ফিরে আসেন বাংলাদেশে। বর্তমানে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। খুরশেদ মিয়া এখন হারিয়ে ফেলেছেন তাঁর ভিটাবাড়ি, এবং স্ত্রী, সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তার স্ত্রী, হাজেরা খাতুন বলেন, “এখন আমাদের কাছে কিছুই নেই। স্বামী পঙ্গু, আমাকে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে হয়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ একেবারেই অন্ধকারে। জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো পার করার মতো আর সাহসও নেই।”

খুরশেদের করুণ কাহিনী, যিনি একটি নতুন জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার জন্য যা কিছু পেয়েছিলেন তা সব হারিয়ে ফেলেছেন, আমাদের সামনে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।


#ইতালি #ভৈরব #অপমৃত্যু #পঙ্গু_খুরশেদ #লিবিয়া #অভিবাসন #জীবনের_কষ্ট




মন্তব্যসমূহ