আমাদের শরীরের দুই কিডনির ওপরে অবস্থিত ছোট দুটি গ্রন্থি, যেগুলোকে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি বলা হয়, কর্টিসল নামক একটি অত্যাবশ্যক হরমোন নিঃসরণ করে। এই হরমোন শরীরের বিভিন্ন বিপর্যয় সামলাতে সহায়তা করে। কর্টিসলের উৎপাদন হঠাৎ কমে গেলে শরীর মারাত্মক সঙ্কটে পড়তে পারে, যেটিকে বলা হয় অ্যাড্রিনাল ক্রাইসিস—এটি জীবননাশও ডেকে আনতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ, হাঁপানি, বাত ইত্যাদির চিকিৎসায় নিয়মিত স্টেরয়েড গ্রহণ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ব্যক্তির শরীর নিজে থেকে কর্টিসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এরপর হঠাৎ করে স্টেরয়েড বন্ধ করলে শরীরে কর্টিসলের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, যা অ্যাড্রিনাল ক্রাইসিস ডেকে আনতে পারে। অনেকেই আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্টেরয়েড গ্রহণ করেন—বাংলাদেশে এটি অ্যাড্রিনাল ক্রাইসিসের অন্যতম বড় কারণ।
এছাড়া যাঁরা অ্যাড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি যেমন টিবি, অটোইমিউন রোগ বা গ্রন্থির টিউমারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কর্টিসলজাত ওষুধে নির্ভরশীল, তাঁদের অসুস্থতার সময় এই সমস্যা ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।
কী কী কারণে হতে পারে?
-
দীর্ঘ সময় ধরে স্টেরয়েড বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ গ্রহণ
-
অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির যক্ষ্মা বা টিউমার
-
অটোইমিউন রোগ
-
মস্তিষ্কের প্রদাহ, টিউমার বা ইনফেকশন (যেমন মেনিনজাইটিস, এনকেফালাইটিস)
লক্ষণগুলো কী?
-
আকস্মিক দুর্বলতা এবং মাথা ঘোরা
-
চোখে ঝাপসা দেখা
-
হাত-পায়ে অবশ ভাব
-
রক্তচাপ ও ব্লাড সুগার হঠাৎ কমে যাওয়া
-
বমি বমি ভাব বা বমি
-
জ্ঞান হারানো
করণীয় কী?
এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এবং দ্রুত স্যালাইন ও কর্টিসল ইনজেকশন দিতে হবে।
যাঁরা নিয়মিত স্টেরয়েড গ্রহণ করছেন, তাঁদের উচিত সব সময় “স্টেরয়েড কার্ড” সঙ্গে রাখা। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হয়। এমন একটি কার্ড যে কোনো সময় আপনার প্রাণরক্ষা করতে পারে।
ট্যাগস:
#AdrenalCrisis #SteroidWarning #HormoneHealth #EmergencyAwareness #HealthTipsBD #MedicalEmergency #SmartVerseBD
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন