কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবারও ঘটেছে চমকপ্রদ ঘটনা। চার মাস ১২ দিন পর খোলা হয় মসজিদের ১১টি দানসিন্দুক। টাকা-পয়সার সঙ্গে এবার উঠে এসেছে আবেগ, প্রার্থনা আর কিছু রহস্যময় বার্তা।
সিন্দুক খোলার সময় পাওয়া গেছে ২৮ বস্তা টাকা, এক বস্তা চিরকুট, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা। সবমিলিয়ে এবার পাওয়া গেছে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা, নিশ্চিত করেছেন দানবাক্স খোলার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার।
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে শুধু টাকা নয়, অনেকে রাখেন নিজেদের মনের কথা—কারও দোয়া, কারও আকুতি, আবার কারও গোপন প্রেমের বার্তা। চিঠিগুলোতে উঠে আসে মানুষের বাস্তব জীবনের হাসি-কান্না।
কে কী লিখেছেন?
-
ইমরান নামে এক তরুণ লিখেছেন, তিনি ভালোবাসেন রাবেয়া আক্তারকে, কিন্তু মেয়েটির পরিবার রাজি নয়। তাই প্রার্থনা করেছেন যেন রাবেয়া তার জীবনে ফিরে আসে।
-
এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি লিখেছেন, তার বিয়ে বারবার ভেঙে যাচ্ছে। সমাজের কটুকথা সহ্য করতে না পেরে পাগলা বাবার কাছে হাত পেতেছেন, যেন তার বিয়েটা এবার সফল হয়।
-
সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল এক চিরকুটে লেখা, "পাগলা চাচা, শেখ হাসিনা কোথায়?"—এ যেন এক কৌতূহলমিশ্রিত প্রশ্ন।
-
আরেকজন লিখেছেন, তিনি চান ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তত পাঁচ বছর দেশের ক্ষমতায় থাকুন। তিনি তার বার্তায় স্বাক্ষর করেছেন “সাধারণ জনগণ” নামে।
-
রেহানা সারোয়ার নামে এক নারী ১২ বছরের সংসার জীবনে নিঃসন্তান। আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে চেয়েছেন একটি সন্তান।
-
কেউ আবার চেয়েছেন ব্যবসার উন্নতি। ওষুধের দোকানে অর্জিত ১১ লাখ টাকার সঙ্গে আরও ১৫ লাখ জমা হওয়ার প্রার্থনা করেছেন ২০২৬ সালের মধ্যে।
চিঠির ভিড়ে টাকা রাখতেই সমস্যা!
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার চিঠির সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। সাধারণত ৯টি দানবাক্স থাকলেও এবার ১১টি করা হয়। তারপরও অনেক চিরকুটের কারণে দান রাখার জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়।
তবে, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, এই চিঠির সংখ্যা এবং বিষয়বস্তু কখনো কখনো বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তাই এবার পাওয়া চিঠিগুলো আলাদা একটি বস্তায় রেখে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন—দানবাক্সে অহেতুক চিঠি না রাখতে।
পাগলা মসজিদ—বিশ্বাসের প্রতীক
নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই মসজিদে প্রচলিত বিশ্বাস হলো, এখানে খাঁটি মনে দান করলে সেই মনোবাসনা পূরণ হয়। তাই কেউ দেয় টাকা, কেউ দেয় স্বর্ণালংকার, কেউবা আবার চিঠিতে নিজের জীবনের কাহিনি।
দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে শুধু একটা আশা নিয়ে—হয়তো পাগলা মসজিদের দরজায় দাঁড়ালে কষ্টের দিন কেটে যাবে।
🏷️ ট্যাগ:
#পাগলা_মসজিদ #দানবাক্স #বাংলাদেশ #চিঠির_আকুতি #শেখ_হাসিনা #মুহাম্মদ_ইউনূস #কিশোরগঞ্জ #ভালোবাসার_কাহিনি #সন্তান_প্রার্থনা #ইসলামিক_সংস্কৃতি #মিরাকল_মসজিদ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন