ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী কতদিন পর্যন্ত বৃষ্টি থাকবে ?

 



আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল সকাল থেকে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকার আকাশে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেঘের আনাগোনা শুরু হয় এবং দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। তবে, বৃষ্টি কখনও থেমে, কখনও আবার পুনরায় শুরু হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ রাজধানীতে প্রায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং মেহেরপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকাগুলিতে বৃষ্টির কারণে আকাশ মেঘলা হয়ে উঠেছে এবং বাতাসের গতিরও পরিবর্তন ঘটেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বৃষ্টি আগামী ২০ এপ্রিল (রোববার) পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে, এই বৃষ্টিপাত একনাগাড়ে হবে না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হবে, আর কখনও আবার থেমে থেমে হবে। মেঘলা আকাশের ফলে কখনো কখনো বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হতে পারে, এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, পদ্মা নদীর তীরবর্তী কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, ঢাকার আশপাশের এলাকায় বজ্রমেঘ রয়েছে, যা বৃষ্টির প্রধান কারণ। এছাড়া, নোয়াখালী ও উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মেঘের সেল রয়েছে। এ সেলগুলির প্রভাবে আগামী ২ থেকে ৪ ঘণ্টা বৃষ্টি থাকতে পারে।

এছাড়া, গতকাল বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা শহরের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টি বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টির প্রাথমিক প্রভাব হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা আরও কয়েক দিন চলতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, তবে বৃষ্টি হবে বিচ্ছিন্নভাবে। এর ফলে কৃষকরা ফসলের ক্ষতির শঙ্কা নিয়েই অপেক্ষা করছেন, তবে বৃষ্টির কারণে কৃষি জমি কিছুটা উপকৃত হবে, বিশেষত গ্রীষ্মকালীন ফসলগুলোর জন্য।

বৃষ্টির কারণ এবং প্রভাব

এই বৃষ্টির কারণ হিসেবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চচাপ এবং দক্ষিণ-পূর্বের মেঘের প্রভাবে এ ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষত, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় বাংলাদেশের কিছু অংশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে, বজ্রপাতে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা বিশেষত কৃষির জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের নদী এবং জলাশয়গুলির পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বন্যার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

এদিকে, কৃষি জমি ও আবহাওয়া সম্পর্কিত নানা পূর্বাভাস মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন অংশের মানুষ বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষত, যারা কৃষিকাজ করেন, তারা এই ধরনের বৃষ্টির প্রভাব সম্পর্কে বেশ চিন্তিত। তবে, কিছু অঞ্চলে এটি উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য। তবে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হলে তা ফসলের জন্য বিপদজনক হতে পারে।


ট্যাগ: #বৃষ্টি #ঢাকা #আবহাওয়া #বাংলাদেশ #বজ্রপাত #শিলাবৃষ্টি #আবহাওয়ার পূর্বাভাস #আবহাওয়া অধিদপ্তর #জলবায়ু #কৃষি #ফসল #বন্যা #আবহাওয়ার প্রভাব #বৃষ্টির পূর্বাভাস


মন্তব্যসমূহ